Home / বিনোদন / ইমাম-ইলন সিন্ডিকেটে ভুয়া ভাউচারে কোটি কোটি টাকা লুটপাট
বিনোদন Breaking Featured Trending

ইমাম-ইলন সিন্ডিকেটে ভুয়া ভাউচারে কোটি কোটি টাকা লুটপাট

অনিয়ম-দুর্নীতি এবং জালিয়াতির মাধ্যমে শিল্পীদের টাকা আত্মসাতসহ বহু অভিযোগ
News Desk 06 Oct 2026, 06:13 PM 113 views
ইমাম-ইলন সিন্ডিকেটে  ভুয়া ভাউচারে কোটি কোটি টাকা লুটপাট

চট্টগ্রামে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং জালিয়াতির মাধ্যমে শিল্পীদের টাকা আত্মসাতসহ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক গবেষণা সম্পাদক, আওয়ামী লীগ সরকার আমলের বিশেষ সুবিধাভোগী বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নির্বাহী প্রযোজক মো: সফির হোসাইন ওরফে ইলন ও বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার মো. ঈমাম হোসেনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়ে সয়লাবে পরিনত হয়েছে। যার ফলে তীরের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার মো. ঈমাম হোসেন।

বিশ্বস্ত সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাহী প্রযোজক ইলন সফির, নেছার উদ্দিন, জামাল উদ্দিন জয়, অতিথি প্রযোজক মোস্তাফিজুর রহমান, অতিথি ভিডিও এডিটর মুনিরুজ্জামান মুনির ও অনুষ্ঠান সহকারী মো: ইসমাইল ও রাজিব অন্যান্যদের নিয়ে সিন্ডিকেট করে অনুষ্ঠানের অধিক বাজেট বানিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ তসরুপ করছেন। পাহাড়ি, কৃষি, পর্যটন , তথ্য ও প্রামান্য অনুষ্ঠান নির্মানের নামে অনুষ্ঠান সহকারী ও জনৈক ভিডিও এডিটরকে পাঠিয়ে অনুষ্ঠান ধারণ করে সংশ্লিষ্ট উর্ধতনরা ভ্রমন ভাতার নামে অর্থ আত্মসাৎ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত ভিডিও এডিটর মনিরুজ্জামান মুনির (অস্থায়ী) বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে ড্রোন, ক্যামেরাসহ বিভিন্ন জিনিস ভাড়া দিয়ে অবৈধভাবে বিপুল অর্থ তসরুপ করছেন প্রযোজকদের সমন্বয়ে এবং এই অর্থ তিনি জিএম, নির্বাহী প্রযোজক সহ সংশ্লিষ্ট প্রযোজকদের প্রদান করেন বলে ওই ভিডিও এডিটরের বরাত দিয়ে জনৈক সহকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে  সুত্রকে জানান।

সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে অনিয়ম, জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করায় সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে কেন্দ্রের পুরো সম্প্রচার ব্যবস্থা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তলব, মন্ত্রণালয়ের তদন্তে প্রমাণিত অভিযোগ এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ থাকার পরও বহাল তবিয়তে থেকে কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো. ঈমাম হোসাইন এবং নির্বাহী প্রযোজক মো. সফির হোসাইন (ওরফে ইলন সফির) এর প্রত্যক্ষ মদده গঠিত ‘হোসাইন সিন্ডিকেট’ এর কবলে পড়ে স্থবির হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রীয় এই সম্প্রচার মাধ্যমটি। যার ফলে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নির্বাহী প্রযোজক মো: সফির হোসাইন ওরফে ইলন সফির এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো: ঈমাম হোসাইন এবং নির্বাহী প্রযোজক মো: সফির হোসাইনের নেতৃত্বে তাদের সদস্যরা জুলাই-জুলাই অভ্যুত্থান অনুষ্ঠানের নামে ভূয়া বাজেট ও বিল ভাউচারের মাধ্যমে চরমভাবে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ঈমাম হোসাইনের যোগসাজসে সফির হোসাইন নির্বাহী প্রযোজক হওয়া সত্ত্বেও সরকারের আইন লঙ্ঘন করে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার সেজে লক্ষ-লক্ষ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করাও অভিযোগ উঠে।

সূত্রে জানা যায়, “ইতিহাসের এই দিনে” শিরোনামে ২ মিনিটের একটি গ্রাফিক্স কার্ড ২৯ বার পুনঃপ্রচার দেখিয়ে ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। গ্রাফিক্স কার্ড বারবার প্রচার করা হলেও ভ্রমণের নামে চার মাসে উত্তোলন করেছেন ৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা। সম্প্রতি তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া গেলেও রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা রোমানা শারমিনকে দিনের পর দিন ছুটি দেখিয়ে চার মাসে শিল্পী সম্মানীর নামে ৬০ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৬ অনৈতিকভাবে উত্তোলনের ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে।

একাধিক শিল্পী নাম প্রকাশ না করে জানান, সিন্ডিকেট শিল্পী সম্মানীর লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনুষ্ঠান পুনঃপ্রচার দেখিয়ে পুনর্নির্মাণের নামে ভুয়া বাজেট তুলছে দুর্নীতিবাজ চক্র। ভালো উপস্থাপকদের ফ্লোর দেওয়া হয় না অথচ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অনভিজ্ঞদের বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন জিএম ঈমাম হোসাইন। অভিযোগে আরও জানা যায়, লেদার টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, ঢাকা শাখার ছাত্রলীগের সাবেক গবেষণা সম্পাদক মো. সফির হোসাইন ২০১৫ সালে ‘প্রযোজক (গ্রেড-২)’ হিসেবে বিটিভিতে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি শিল্পী, কলাকুশলী ও সহকর্মীদের সঙ্গে ছলচাতুরি, অসদাচরণ এবং দুর্নীতিতে জড়াতে থাকেন। সুযোগ বুঝে তৎকালীন প্রযোজক ও এইচডিটিভির পিডি মাহফুজা আক্তারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে নামে বেনামে কোটি টাকা উত্তোলনে অংশ নেন। এসব অর্থ দিয়ে সফির হোসাইন চাকরির তিন বছরের মাথায় গাজীপুরে ৬ একর জমি, দামি গাড়ি এবং রাজধানীর হাতিরঝিলে ২৬০০ বর্গফুটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। ২০২২ সালে তাঁকে নির্বাহী প্রযোজক পদে পদোন্নতি দিয়ে ঢাকায় পদায়ন করলেও যোগদান না করে গোপনে চট্টগ্রামে থেকে যান। মাহফুজা আক্তারের সহযোগিতায় ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে ৫৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এ কারণে ২০২৩ সালের ২ মে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয় এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে ব্যবস্থা নেয়। মাহফুজা আক্তারের ২১ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সফির হোসাইনকে ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দুদক তলব করে।

জালিয়াতির মাধ্যমে শিল্পীদের ৪ কোটি টাকা আত্মসাতসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হলেও বহাল তবিয়তে আছেন মো. সফির হোসাইন ওরফে ইলন সফির। ফলে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র বর্তমানে লুটপাটের উন্মুক্ত অঙ্গনে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (চ. দা.) মো. ঈমাম হোসাইন এবং নির্বাহী প্রযোজক মো. সফির হোসাইনের নেতৃত্বে ‘হোসাইন সিন্ডিকেট’-এর সদস্যরা জুলাই-জুলাই অভ্যুত্থান অনুষ্ঠানের নামে ভুয়া বাজেট ও বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ব্যাপক লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ঈমাম হোসাইনের যোগসাজসে নির্বাহী প্রযোজক হয়েও সরকারের আইন ভঙ্গ করে ভুয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার সেজে বিপুল অঙ্কের টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করছেন সফির হোসাইন।

বিটিভির প্রধান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জালিয়াতি, ছলচাতুরি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিল্পীদের কোটি টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিটিভির মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এবিষয়ে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অনুষ্ঠান ও পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক মো. আজগর আলী।

Tags
entertainment BTV information ministry
Share this news

Comments

Join the discussion with respectful feedback.

0 Approved
Replying to
Please enter your name.
Your comment will appear after approval. 0/2000
Please write your comment.
No comments yet

Be the first to join the discussion.

News Information

Reporter
News Desk
Category
বিনোদন
Published
06 Oct 2026
নোটিফিকেশন ডেমো ✅