Home / জাতীয় / সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে নারাজ বসুন্ধরার বাসিন্দারা
জাতীয় Breaking Featured Trending

সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে নারাজ বসুন্ধরার বাসিন্দারা

মহানগরী ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে যেতে চান না। তারা বলছেন, এখানকার নাগরিক সুবিধা ঢাকা সিটির অন্য যে কোনো এলাকার চেয়ে উত্তম এবং নিরাপদ। স্পেশালাইজড এই প্রাইভেট টাউনে যে নাগরিক সুবি
News Desk 26 May 2026, 05:34 PM ঢাকা 10 views
সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে নারাজ  বসুন্ধরার বাসিন্দারা

মহানগরী ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে যেতে চান না। তারা বলছেন, এখানকার নাগরিক সুবিধা ঢাকা সিটির অন্য যে কোনো এলাকার চেয়ে উত্তম এবং নিরাপদ। স্পেশালাইজড এই প্রাইভেট টাউনে যে নাগরিক সুবিধা আছে তা ঢাকা সিটি করপোরেশনের আওতার অন্য এলাকায় নেই। 

বসুন্ধরার বাসিন্দাদের শঙ্কা, সিটি করপোরেশন বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির মতো নিরাপত্তা দিতে পারবে না। ফলে সন্ত্রাস বা মাদকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। নষ্ট হতে পারে বাসিন্দাদের শান্তির নিরাপদ আবাস। 

বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নিজস্ব অর্থায়নে নিরাপত্তা, রাস্তা, ড্রেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সব নাগরিক সেবা দিচ্ছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে উন্নত, আধুনিক ও নিরাপদ নাগরিক সেবায় অভ্যস্ত। তাদের দাবি, দেশের অন্য যেকোনো আবাসিক এলাকার তুলনায় বসুন্ধরা বেশি নিরাপদ, সুরক্ষিত, পরিচ্ছন্ন এবং মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত। এসব সেবা নিশ্চিত করে আসছে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। 

আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল এমপি ও মহাসচিব ক্যাপ্টেন (অব.) শেখ এহসান রেজা ৬ মে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বরাবর একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তারা বলেছেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্লট ও ফ্ল্যাট মালিকদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নিরলসভাবে কাজ করছে। তারা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় যেতে চান না। এ কারণে সম্মিলিত সম্মতিপত্রে সই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তারা ইতোমধ্যেই চিঠি দিয়েছেন।  

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা জানান, এই এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতায় গেলে এখানকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে। বহিরাগত সন্ত্রাসী, হকার, চাঁদাবাজ ও মাদকসেবীদের আনাগোনাও বেড়ে যেতে পারে। তাদের ঠেকাতে পারবে না সিটি করপোরেশন। কারণ, তাদের ওই জনবল ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো নেই। যেখানে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সকল প্রবেশপথে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন। রয়েছে বিপুলসংখ্যক ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার নজরদারি। এ কারণেই অপরাধীরা এলাকায় প্রবেশ করতে পারে না।  

বাসিন্দারা আরও জানান, এমন একটি শান্তিময় আবাসিক এলাকা সিটির আওতায় গেলে, সার্বিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। এখন এ আবাসিক এলাকাটি যত্রতত্র চায়ের স্টল, হকার ও দোকানপাটমুক্ত। এর ফলে এটি পরিচ্ছন্ন ও কোলাহলমুক্ত। আবাসিক বাসিন্দাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার প্রতিফলন দেখা যায়, সিটি করপোরেশনকে দেওয়া বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ারের চিঠিতে। ওই চিঠি থেকে আরও জানা যায়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন বিশেষ করে রাস্তাঘাট নির্মাণ ও মেরামত, ফুটপাত রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রেন পরিষ্কার রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কে বাতি স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, পানি সরবরাহ, সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মশা নিধন, বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন ও তারের সংযোগ এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণসহ সামগ্রিক কাজ বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির মাধ্যমে নিজস্ব অর্থায়নে করা হয়। 

শুধু তাই নয়, সোসাইটির ব্যবস্থাপনায় আবাসিক প্রকল্পটির সকল উন্নয়ন কাজ সম্ভাব্য ২০৩৪ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার অনুমতিও নিয়ে রাখা হয়েছে। এখানকার আবাসিক বাসিন্দা ও সকল প্লট ও ফ্ল্যাট মালিকরা সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন না যাওয়ার অভিপ্রায় জানিয়ে এর আগেও সিটি করপোরেশনে সম্মিলিতভাবে চিঠি দিয়েছিল। ওই চিঠির স্মারক নং- রাজউক/বওসো/২০২৬/০১ এর আলোকে বিষয়টি অবগত করে রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর পত্র দেয়া হয়েছে। একই সাথে এর অনুলিপি ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসককেও দেয়া হয়েছে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, এলাকাটি শুধু সেবার মানের দিক থেকেই নয়; এখানে দেশসেরা হাসপাতাল, বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্বমানের স্পোর্টস সিটি, গল্ফ ক্লাব, শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, বেশ কয়েকটি সুপারশপ, কমিউনিটি পার্কসহ উন্নত নাগরিক সেবার সব উপকরণই রয়েছে। 

এদিকে, সিটি করপোরেশনকে দেয়া বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চিঠিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃক বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্লট ও ফ্ল্যাট মালিক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হোল্ডিং ট্যাক্স সার্ভিস চার্জ পরিশোধের জন্য যে চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান করেছে তাতে বাসিন্দাদের মধ্যে যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে তাও উল্লেখ করা হয়। বাসিন্দাদের ওপর এটি যে আর্থিক বোঝার শামিল এবং তা পরিশোধে তারা অপারগ সেটিও জানানো হয়। বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি আশা করে উক্ত প্রকল্পটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সকল ধরনের হোল্ডিং ট্যাক্স ও সার্ভিস চার্জ স্থগিত করতে হবে এবং তা থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত সকল প্লট ও ফ্ল্যাট মালিক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি প্রদান করবে।

Tags
মহানগর সিটি করপোরেশনের বসুন্ধরার বাসিন্দারা
Share this news

Comments

Join the discussion with respectful feedback.

0 Approved
Replying to
Please enter your name.
Your comment will appear after approval. 0/2000
Please write your comment.
No comments yet

Be the first to join the discussion.

নোটিফিকেশন ডেমো ✅